Mon. Jun 14th, 2021

সিলেট টেলিগ্রাফ

সত্য প্রকাশে অবিচল

অবিসংবাদিত নেতার শুরু থেকে শেষ

1 min read

 296 total views,  2 views today

ডেস্ক::জন্ম ১৯৮৩ সালের ৫ অক্টোবর, নাড়াইলে। ক্যারিয়ারের শুরুতে গতির ঝড়ে সাড়া ফেলে দেন। অনূর্ধ্ব-১৯ দলে থাকা অবস্থায় বাংলাদেশের তৎকালীন অস্থায়ী ক্যারিবিয়ান বোলিং কোচ অ্যান্ডি রবার্টসের নজরে পড়েন। ডাক পড়ে ‘এ’ দলে। সেখানে মাত্র একটি ম্যাচ খেলেন। পরেটা ইতিহাস!

আন্তর্জাতিক অভিষেক:
তিন ফরম্যাটেই মাশরাফীর অভিষেক জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। ২০০১ সালের ৮ নভেম্বর ঢাকায় টেস্ট অভিষেক। বৃষ্টির কারণে ম্যাচটি অমীমাংসিত থাকলেও ১০৬ রানে ৪ উইকেট নিয়ে নিজের জাত চেনান ম্যাশ। স্টুয়ার্ট কার্লাইল তার প্রথম শিকার। জিম্বাবুয়ের ওই সফরেই চট্টগ্রামে ওয়ানডের জার্সি গায়ে জড়ান। ২০০৬ সালে খুলনায় টি-২০ অভিষেক।
অধিনায়ক মাশরাফী:
ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত ২০০৯ টি২০ বিশ্বকাপের পর মোহাম্মদ আশরাফুলকে সরিয়ে মাশরাফীকে অধিনায়ক ঘোষণা করে বিসিবি। বিস্মিত মাশরাফী প্রতিক্রিয়ায় বলেন, অধিনায়ক হওয়ার আকাঙ্ক্ষা আমার কখনোই ছিল না। আমি অন্যের নেতৃত্বে খেলতেই পছন্দ করি।
অধিনায়কত্বের প্রথম দায়িত্ব হিসেবে পরে জুলাইয়ের ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফর। টেস্ট, ওয়ানডে এবং টি২০-তে নেতৃত্ব দেওয়ার কথা ছিলো তার। কিংস্টোনে প্রথম টেস্টের তৃতীয় দিন সকালেই হাঁটুর চোটে পড়ে মাঠ ছাড়তে হয়। পরে পুরো সফর থেকেই ছিটকে যান। এরপর টেস্টে নেতৃত্ব দেয়া তো দূরের কথা, এই ফরম্যাটে আর মাঠেই নামা হয়নি তার।
ওয়ানডের নেতৃত্বে:
ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে থেকে ফেরার পর দুই মাস মাঠের বাইরে। অক্টোবরে জিম্বাবুয়ে সিরিজের দলে ফেরেন। ২৭ অক্টোবর ওয়ানডেতে অধিনায়ক হিসেবে অভিষেক হওয়ার কথা। কিন্তু তার পাঁচ দিন আগে ফিটনেস সমস্যায় আবারো ছিটকে যান। এরপর জানুয়ারিতে ভারত-শ্রীলংকাকে নিয়ে আয়োজিত ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রাথমিক দলে রাখা হয়। কিন্তু আবারো সেই ফিটনেস সমস্যা। জানুয়ারিতে খেলার মতো ফিট হয়ে ওঠায় নিউজিল্যান্ড সফরের দলে রাখা হয়। কিন্তু এবার আটকে যান জ্বরের কারণে।
এরপর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরতে লেগে যায় ছয় মাস। ফেব্রুয়ারিতে ঢাকায় ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এবং জুনে শ্রীলংকায় এশিয়া কাপে দলে থাকলেও নেতৃত্বে ছিলেন সাকিব আল হাসান। তবে জুলাইয়ে ইংল্যান্ডে ফিরতি সফরে যাওয়ার ঠিক আগের দিন আচমকাই মাশরাফীকে ফের অধিনায়ক করা হয়। ওয়ানডেতে অধিনায়ক মাশরাফীর অভিষেক হয় ৮ জুলাই। অ্যান্ড্রু স্ট্রাউসের বিপক্ষে টস জিতলে দল হারে ৬ উইকেটে।
আবারো ইনজুরি, নেতৃত্ব হারিয়ে আবার ফিরে পাওয়া:
৭ ম্যাচ পর ইনজুরির কারণে আবারও ছিটকে পড়েন। খেলতে পারেননি ২০১১ বিশ্বকাপও। বিশ্বকাপের পর দলে ফিরেন। ততদিনে সাকিব দলের নিয়মিত অধিনায়ক। তারপর নেতৃত্বে আসেন মুশফিকুর রহিম। তবে ২০১৫ বিশ্বকাপ সামনে রেখে আরেকবার ভাবনায় চলে আসেন মাশরাফী। ২০১৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর মুশফিককে সরিয়ে জিম্বাবুয়ে সিরিজের দল ঘোষণা করা হয় মাশরাফীকে অধিনায়ক করে। ওই সিজির দিয়েই শুরু হয় মাশরাফীর তথা দেশের ক্রিকেটের সবচেয়ে সফল নেতৃত্বের।
অবিসংবাদিত হয়ে নেতা হয়ে ওঠা:
কেউ ভাবেওনি অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ডের মাটিতে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল খেলতে পারবে বাংলাদেশ। মাশরাফির ক্যারিশমেটিক নেতৃত্বে এই অসাধ্য সাধারণ করে দেখায় টাইগাররা। বিশ্বকাপের সাফল্য মাশরাফীকে তুলে ধরে ভরসার প্রতীক হিসেবে। বিশ্বকাপেরও অব্যাহত থাকে বাংলাদেশ সাফল্যের ধারা। দেশের মাটিতে ভারত, পাকিস্তান এবং দক্ষিণ আফ্রিকার মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে টানা তিনটি ওয়ানডে সিরিজ জেতে বাংলাদেশ। সাফল্যের চূড়ায় ওঠা অধিনায়ক মাশরাফী হয়ে ওঠেন অবিসংবাদিত নেতা।
দেশের ক্রিকেটে বুদ হয় মাশরাফী ক্রেজে। ২০১৬-এর ১ অক্টোবরে মিরপুরে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচের সময় গ্যালারির বাধা টপকে মাঠের ঢুকে পড়েন এক দর্শক। জড়িয়ে ধরেন মাশরাফীকে। এনিয়ে হাঙ্গামাও কম হয়নি তখন।
সাফল্যের মুকুটে আরো পালক:
মাশরাফীর নেতৃত্বে বৈশ্বিক কোনো টুর্নামেন্টে প্রথম সেমিফাইনালে খেলার গৌরব অর্জন করে বাংলাদেশ। ২০১৭ সালের জুনে ইংল্যান্ডের মাটিতে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সেই সাফল্য আজো তরতাজা।
প্রথম ট্রফি জয়:
দ্বিপাক্ষিক সিরিজে দারুণ সাফল্য পেলেও ত্রিদেশীয় কিংবা কোন টুর্নামেন্টের শিরোপা জিততে পারছিলো না বাংলাদেশ। ২০১৮ সালে দুবাইয়ে এশিয়া কাপের ফাইনালে উঠেও খালি হাতে ফিরতে হয়। অবশেষে ২০১৯ বিশ্বকাপের আগমুহূর্তে আয়ারল্যান্ডে আয়োজিত ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়ে শিরোপা জেতে মাশরাফীর দল।
বিশ্বকাপের হতাশা, সমালোচনার পাহাড়:
তৃতীয় দফায় অধিনায়কত্ব পাওয়ার পর প্রায় পাঁচ বছরে একের পর এক সাফল্যের ধারা থমকে যায় ইংল্যান্ড বিশ্বকাপে। গ্রুপ পর্বে আট ম্যাচ খেলে মাত্র তিনটি জয় পায় বাংলাদেশ। বল হাতে একেবারেই বিবর্ণ ছিলেন মাশরাফী, পান মাত্র ১ উইকেট। তার নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন না উঠলেও মাঠের পারফরম্যান্স ব্যাপকভাবে সমালোচিত হয়।
লাটাই গুটানো:
২০০৯ সালে জ্যামাইকাতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সবশেষ টেস্ট ম্যাচটি খেলেছিলেন। আনুষ্ঠানিকভাবে অবসর না নিলেও তারপর আর সাদা পোশাকে দেশের হয়ে মাঠে নামা হয়নি।
২০১৭ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টি-২০তে টসের সময় আকস্মিকভাবে অবসরের ঘোষণা দেন। ক্রিকেটে এভাবে অবসরের ঘটনা বিরল। ভক্তদের অনেকেই দাবি করেন, বিসিবির চাপেই টি-২০ ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলেন তিনি।
আর ৬ মার্চ ২০২০, সিলেটে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে অধিনায়ক হিসেবে শেষ ওয়ানডেটি খেলে ফেললেন মাশরাফী। তার আগে অধিনায়ক হিসেবে ওয়ানডেতে ১শ’ উইকেট নেয়াদের তালিকায় পঞ্চম স্থানে নাম লেখান। অধিনায়কত্ব ছাড়ালেও খেলাটা তিনি চালিয়ে যাবেন, সাধারণ ক্রিকেটার হিসেবে নতুন চ্যালেঞ্জ তার সামনে।
আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার:
বোলার মাশরাফী ২২০ ওয়ানডেতে ২৭০ উইকেট, ৩৬ টেস্টে ৭৮ উইকেট এবং ৫৪ টি-২০তে ৪২ উইকেট নিয়েছেন। ব্যাট হাতে ওয়ানডেতে ১,৭৮৭, টেস্টে ৭৯৭ এবং টি-২০তে ৩৭৭ রান আছে তার নামের পাশে।
সাফল্যের খতিয়ান:
মোট ৮৯ ওয়ানডেতে নেতৃত্ব দিয়ে ৫০টিতে জয় এনে দেন। তার অধীনে ২৮ টি-২০’র মধ্যে ১০টি জয় পায় বাংলাদেশ। ২০০৯ সালে তার নেতৃত্বে একমাত্র টেস্টে জয় পায় বাংলাদেশ। সেটিই এখন পর্যন্ত তার শেষ টেস্ট।

Ad
সম্পাদক : যীশু আচার্য্য II স্বপ্নীল ৬৪ মির্জাজাঙ্গাল, সিলেট II ফোন: ০১৭১৯-৭৩৩৫৪৯ | Newsphere by AF themes.
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.