Sat. Dec 14th, 2019

সিলেট টেলিগ্রাফ

সত্য প্রকাশে অবিচল

আরিফ নাকি কামরান? কে হচ্ছেন সিলেটের নতুন নগরপিতা?

1 min read

আশীষ দে:
সিলেট সিটি কর্পোরেশনের ইতিহাসে-সবগুলো নির্বাচনেই দুটি বড় রাজনৈতিক দলের মনোনীত প্রার্থীদের মধ্যে থেকেই নির্বাচিত হয়ে আসছেন সিসিক মেয়র, অর্থাৎ স্বতন্ত্র বা নাগরিক সমাজের ব্যনারে মেয়র নির্বাচিত হওয়ার কোন ঘটনা সিলেট সিটি কর্পোরেশনের ইতিহাসে আজপর্যন্ত কখনোই ঘটেনি! সেই পরিসংখ্যান ও সাম্প্রতিক সময়ে সিলেটের আঞ্চলিক রাজনীতি ও সম্ভাব্য হেভীওয়েট মেয়র পদপ্রার্থীদের ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা ও প্রচারণা বিবেচনায় এটা সহজেই অনুমেয় যে এবারও বিএনপি বা আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থীর মধ্যে থেকেই নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন পরবর্তী সিসিক মেয়র।

যদিও বড় দুটি দলের দলীয় মনোনয়ন কে পাচ্ছেন সেটা নিয়ে রয়েছে নানান জল্পনা-কল্পনা, বিএনপি থেকে আরিফুল হক চৌধুরীর মনোনয়ন পাওয়াটা প্রায় নিশ্চিত হলেও- নিশ্চিত নয় কামরানের টিকেট। সিলেট আওয়ামিলীগের আরো দুই হেভীওয়েট আসাদ উদ্দীন আহমদ ও আজাদুর রহমান আজাদ ও রয়েছেন দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশীদের দৌড়ে।
আসাদ উদ্দিন আহমদ বিশ্বাস করেন নেত্রী তার উপরেই এবার আস্থা রাখবেন এবং তিনি সিলেটবাসীকে সাথে নিয়ে নির্বাচনে জয়ের মালা গলায় পড়ে নেত্রীর সেই আস্থা,ভালোবাসার প্রতিদান দিতে সক্ষম হবেন বলে আশাবাদী।
এদিকে সাবেক মেয়র বদর উদ্দীন কামরান সিলেটে কয়েকটি সভায় বলেছেন যে দলীয় নেত্রী তাকে সিসিক নির্বাচনের ব্যাপারে “গ্রীন সিগনাল” দিয়েছেন এবং তিনি সেই অনুযায়ী কাজ শুরু করে দিয়েছেন। সিলেটের রাজনৈতিক বোদ্ধাদের মতে বড় কোন নাটকীয় ঘটনা না ঘটলে বদর উদ্দীন কামরানই হয়তো পাচ্ছেন নৌকার টিকেট। সেক্ষেত্রে কেমন হতে পারে ভোটের লড়াই?

সাবেক দুইবারের মেয়র ও বর্তমান মেয়রের লড়াইটা যে হবে হাড্ডাহাড্ডি সে ব্যাপারে কোন সন্দেহ নেই।
২০১৩ সালের সেপ্টেম্বরে সিসিকের দ্বায়িত্ব নেয়ার মাত্র কয়েক মাস পর সাবেক অর্থমন্ত্রী এসএম কিবরিয়া হত্যা মামলায় গ্রেফতার হন মেয়র আরিফ, প্রায় আড়াই বছর কারাবন্দী ছিলেন সিলেটের এই নগরপিতা।সেইসময় নগরীর পয়েন্টে পয়েন্টে টানানো ব্যানার-পোস্টারে মেয়র আরিফের অশ্রুসজল চোখের মায়ায় মজেছিলেন সিলেটের আপামর সাধারন মানুষ! সেই অশ্রুসজল চোখ শুধু আগামী নির্বাচন পর্যন্তই নয় আরো অনেক অনেকদিন মানুষের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ ঘটাবে সেটা প্রায় নিশ্চিত।জামিনে কারামুক্তির পর ও গ্রেফতার হবার আগ মুহুর্ত পর্যন্ত মেয়র আরিফ সিলেটের উন্নয়নে যে পদক্ষেপগুলো নিয়েছেন তা জননন্দিত হয়েছে, বিশেষ করে ছড়া প্রশস্তিকরন ও অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ,হকার উচ্ছেদ ও রাস্তা প্রশস্তিকরনে তার ভুমিকা সর্বমহলে বাহবা খুড়িয়েছে।

এছাড়াও অসাম্প্রদায়িক মনোভাব ও উন্নয়নের প্রশ্নে সদা অবিচল হওয়ায় মেয়র আরিফ স্বল্প সময়েই জনপ্রিয়তার এক উচ্চতর আসনে নিজেকে আসীন করতে সক্ষম হয়েছেন।
তাই ২০১৩ সালের নির্বাচনের আরিফের চেয়ে ২০১৮ সালের নির্বাচনের আরিফ অনেকগুন শক্তিশালী বলেই রাজনৈতিক বোদ্ধাদের বিশ্বাস।
কেননা ২০১৮ সালের আরিফ নিজেই একটা ব্র্যান্ড ও উন্নয়নের রোল মডেল।
অবশ্য কেউ কেউ মনে করেন দলীয় গ্রুপিং,খেটে খাওয়া মানুষের নাগালের বাইরে থাকা ও হকার উচ্ছেদসহ কিছু ইস্যু “ভোগাবে” আরিফকে।

অন্যদিকে ২০১৩ এর নির্বাচনে পরাজিত হবার পর থেকে একবারের জন্যেও মাঠ ছাড়েননি সাবেক দুইবারের সিটি মেয়র কামরান, আরিফের অনুপস্থিতে নগরীর একপ্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে চষে বেড়িয়েছেন কামরান, শুনেছেন অসহায় দু:স্থ মানুষের দু:খ-কষ্টের কথা।
সকল পারিবারিক,সামাজিক,সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে রাত-বিরাতে ছুটে গেছেন,পাশে দাড়িঁয়েছেন নির্যাতিত,নিপীড়িত মানুষের। সিলেটের গণমানুষের আবেগ ও অনুভুতির সাথে অনেক আগে থেকেই মিশে একাকার হয়ে আছেন নগরবাসীর “ঘরের ছেলে কামরান”।

দরিদ্র মানুষকে আপন করে চিরমমতায় বুকে জড়িয়ে ধরা ও গত দুই টার্মের উন্নয়নের পোর্টফলিও ও নিজস্ব ভোটব্যাংকের কারনেও “গরীবের বন্ধু” কামরানকেই মেয়র হবার দৌড়ে এগিয়ে রাখছেন অনেকে।
কিন্তু প্রতিপক্ষ যেখানে আরিফুল হক চৌধুরী সেখানে জয়ের অগ্রিম হিসেব-নিকেশ বা পরিসংখ্যান বড্ড বেমানান।

পরিশেষে, ফলাফল যাই হোক না কেনো….এযাবতকালের সবচেয়ে হাড্ডাহাড্ডী জম্পেশ একটি ভোটযুদ্ধের সাক্ষী হতে চলেছে সিলেটবাসী-চারিদিকের ফিসফিস শব্দ” অন্তত সেটার হাতছানিই দেয়।

সিলেট টেলিগ্রাফ, স্বপ্নীল ৬৪ মির্জাজাঙ্গাল, সিলেট, ফোন :০১৭১২-৬৫০১৫৬ | Newsphere by AF themes.
Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.