Sat. Jun 19th, 2021

সিলেট টেলিগ্রাফ

সত্য প্রকাশে অবিচল

ইফতারি নিয়ে কিছু কথা _রুপক চন্দ্র দাস

1 min read

 3,641 total views,  2 views today

এই মহামারীর বছরে আসুন আমরা সবাই মিলে মেয়ের বাড়ি ইফতারি পাঠানো প্রথাকে না বলি।

কারন ইফতারি কোনো ধর্মীয় নিয়ম নয়, এগুলা মানুষেরই সৃষ্টি।
তাছাড়া এই মহামারীর বছরে যেখানে নিজের জান বাঁচানোই মশকিল সেখানে মেয়ের বাড়ী ইফতার পাঠানো টা কতটুকু যৌক্তিক?

হোম কোয়ারান্টাইন এ থাকার ফলে প্রায় সকলেরই আয় রোজগার বন্ধ, ফলে নিজের সংসার চালানোই রীতিমতো কস্টকর।
এর মধ্যে যদি মেয়ের বাড়ি ইফতার পাঠাতে হয় তাহলে তা মরার উপর খাড়ার ঘা।
তাছাড়া অই ইফতারি কোথায় তৈরি হচ্ছে, কার কার স্পর্শ পাচ্ছে, সে কতোটুকু পরিচ্ছন্নতা রক্ষা করছে, করোনা ছড়াচ্ছে কি না, তা আমরা কিছুই জানি না।
বরং করোনা ছড়ানোর সম্ভাবনাই বেশি।

তাই আসুন, নিজেকে বাঁচানোর জন্য এবছর ইফতারি দেওয়া নেওয়ার প্রথাকে না বলি।

তাছাড়া বিশ্বব্যাপী ভাইরাসের মহামারী বৃদ্ধি পাওয়ায় সবচেয়ে বেকায়দায় আছে মধ্যবিত্ত পরিবার।
নিম্নবিত্তরা বিভিন্ন সরকারি ও ব্যাক্তিগত অনুদান পেলেও সেক্ষেত্রে মধ্যবিত্তরা বঞ্ছিত।

মধ্যবিত্ত রা না পারছেন বলতে , না পারছেন সইতে।
আবার এই রমজান মাসে মেয়ের বাড়ি বা বোনের বাড়ি পাঠাতে হবে ইফতারি! !!
যেখানে নিজের পরের বেলা কিভাবে খাব সেই চিন্তায় মাথা গোরপাক খাচ্ছে, সেখানে গাড়ি ভরে ইফতার পাঠানো টা কতোটুকু কস্টকর একটাবার চিন্তা করে দেখেন।

তাই আসুন নিজ থেকেই প্রত্যকে নিজের বেয়াই বাড়ি / শশুড় বাড়ীর লোকজনদের জানিয়ে দেন যে আপনার বাড়ি যাতে কোনোপ্রকার ইফতার সামগ্রী না পাঠায় , এমনকি উনারাও যাতে না আসে, নিজের ঘরে থাকুক, নিরাপদ থাকুক।

একটা কথা চিন্তাকরে দেখেন, আপনি আল্লাহকে খুশি করার জন্য সারা মাস রোজা রাখবেন, সারা মাসই আপনার সাধ্যমতো ইফতারি করবেন।

তাহলে কেনোইবা একদিনের জন্য অন্যর মনে কস্ট দিবেন।
কারন এই মহামারীর বছরে আপনার বাড়ি ইফতারি পাঠানো মানে উনাকে বিপদের মধ্যই ফেলে দেওয়া।

তারছেয়ে উনাকে এবার না করে দেখেন, এতে উনি প্রথম দিকে একটু চাপাচাপি করলেও আসলেই কিন্তু অনেক স্বস্থি পাবেন এবং অনেক বড় দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি পাবেন।

আর হ্যা, এতে আপনার মান সম্মান কমবে না বরং বাড়বে, উনি বুক ফুলিয়ে অন্যদের কাছে গল্প করে বেড়াবে যে, এবার আমার জামাই/বেয়াই ইফতারি পাঠাতে না করেছে।
এতে আপনার সুনাম হবে।

তাই আসুন,
যার সাথে আত্মীয়তা করেছি, একদিনের জন্য উনাদের বিপদে না ফেলে দিয়ে এই প্রথাকে না বলি।

এই আত্মসংযম ও আত্মশুদ্ধির মাসে সবাই সকলের ততা এই জগতের মংঙ্গল কামনা করি।
মহান সৃষ্টিকর্তা আমাদের এই মহামারী ততা সকল ধরনের রোগ বালাই থেকে রক্ষা করুন।

ধন্যবাদ,
রুপক চন্দ্র দাস,
সভাপতি,
কোম্পানিগঞ্জ ছাত্র পরিষদ, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটি।
সহ-সভাপতি,
বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, কোম্পানিগঞ্জ উপজেলা।

Ad
সম্পাদক : যীশু আচার্য্য II স্বপ্নীল ৬৪ মির্জাজাঙ্গাল, সিলেট II ফোন: ০১৭১৯-৭৩৩৫৪৯ | Newsphere by AF themes.
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.