Sat. Jun 19th, 2021

সিলেট টেলিগ্রাফ

সত্য প্রকাশে অবিচল

করোনায় ভাল নেই চুনারুঘাটের দু’টি গ্রামের মৃৎশিল্পীরা

1 min read

 1,598 total views,  2 views today

চুনারুঘাট(হবিগঞ্জ)প্রতিনিধিঃ হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে দু’টি গ্রামের প্রায় ২৫টি মৃৎশিল্পী পরিবার কষ্টে-সৃষ্টে জীবনযাপন করছে। উপজেলার সাঁটিয়াজুরী ইউপির কাজিরখিল ও খনকারিগাঁও গ্রামের কুমারপাল পাড়ায় যা সহজেই যে কারোর মনকে পুলকিত করে তুলে। আর এ মৃৎশিল্প’র ঐতিহ্য আঁকড়ে থাকা পাল বংশের লোকদের টিকে থাকা যেন কঠিন হয়ে পড়েছে। এক সময় এ গ্রামগুলিতে মৃৎশিল্প’র জৌলুস ছিল। এ শিল্পে জড়িয়ে ছিল অনেক পরিবার। হাতে গোনা কয়েকটি পরিবার কষ্টে-সৃষ্টে তাদের পূর্ব-পুরুষদের এ পেশা ধরে রেখেছেন। কিন্তু বর্তমানে করোনা ভাইরাস সংক্রমণের কারণে সম্পুর্নরুপে বন্ধ হয়ে গেছে এ মাটির কাজ। তাই এই কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অনেকেই হতাশা হয়ে পড়েছে। জানাযায়, মাটির তৈরি বাসন, হাড়ি, পাতিল, কলসি, ব্যাংক, পিঠা তৈরির ছাঁচ, পুতুল তৈরিতে মাটি ও পোড়ানো বাবদ প্রায় ৫ টাকা খরচ হলেও তা বাজারে বিক্রি হয় ১০ টাকা। এর মধ্যেই রয়েছে শ্রম ও মাল বহনের খরচ। ফলে লাভের মুখ তারা দেখে না। অথচ ঐ একটি খোলা এক হাত ঘুরে বাজারে খুচরা ক্রেতা কিনছে ২০ থেকে ৩০ টাকা। ফলে সহজেই অনুমেয় মূল মুনাফা চলে যাচ্ছে মধ্যস্বত্ব ভোগীদের হাতে। ন্যায্য দাম না পাওয়ায় মৃৎশিল্পীরা এ পেশার প্রতি হতাশ। ফলে স্বাভাবিকভাবেই বর্তমান প্রজন্ম এ ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্পের প্রতি আগ্রহ হারাচ্ছে।
মৃৎশিল্পের নিপুণ কারিগরেরা তাদের পরিবার পরিজন নিয়ে এখন অনেকটা অসহায় ও মানবেতর জীবন যাপন করছে। অনেক পুরুষ এ পেশা ছেড়ে ভিন্ন পেশায় চলে গেছেন। মাটির তৈরী জিনিসপত্র আগের মত দামে বিক্রি করতে পারছে না। মাটির এ সকল পাত্রের চাহিদাও আগের মত নেই। মৃৎশিল্পী গৌপেন্দ্র পাল জানান, লাভ লসের চিন্তা করি না। বাপ-দাদার কাজ ছাড়ি কি করে। করোনার আমাদের সকল কাজ বন্ধ হয়ে গেছে। আমরা এখন অসহায় জীবন যাপন করছি। তিনি আরোও বলেন, পূর্বপুরুষের পেশা বাঁচিয়ে রাখতে গিয়ে করোনায় দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতির বাজারে পরিবার পরিজন নিয়ে খুব কষ্টে দিন কাটছে আমাদের। মৃৎশিল্পী মনিন্দ্র রুদ্র পাল, মিনতি রুদ্র পালসহ বেশ কয়েকজন জানান,মাটির তৈরী বাসন, হাড়ি, পাতিল, কলসি, ব্যাংক, পিঠা তৈরির ছাঁচ, পুতুল সহ মাটির তৈরি পর্ণ তৈরিতে মাটি সংগ্রহ করতে অনেক খরচ করতে হয়। এ ছাড়াও জ্বালানির মূল্য বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন ও বিক্রির সঙ্গে মিল না থাকায় প্রতিনিয়ত লোকসান গুনতে হচ্ছে । তার মধ্যে আবার করোনার প্রভাব পড়েছে এখন কাজ কর্ম সব বন্ধ আমরা এখন অসহায় হয়ে পড়েছি। এবিষয়ে চুনারুঘাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সত্যজিত রায় দাশ রায় জানান,এক কালের ঐতিহ্যের মাটির তৈরি বাসন, হাড়ি, পাতিল, কলসি, ব্যাংক, পিঠা তৈরির ছাঁচ, পুতুল এখন হাঁড়িয়ে যাচ্ছে। এসব মাটির তৈরী পর্ণ ধরে রাখতে উপজেলা প্রশাসন থেকে সবধরনের সহযোগিতা করা হবে এবং আমরা উপজেলার মৃৎশিল্পীদের নিকট থেকে মাটির তৈরী কলস্ ক্রয় করে উপজেলার বিভিন্ন বনায়নে পাখিদের আবাসন হিসাবে গাছে গাছে কলস্ বেধে দেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

শংকর শীল
চুনারুঘাট(হবিগঞ্জ)প্রতিনিধি
তারিখঃ ১৮-০৬-২০২০
মোবাঃ ০১৬৭২-৯৫৬৫৫৪।

Ad
সম্পাদক : যীশু আচার্য্য II স্বপ্নীল ৬৪ মির্জাজাঙ্গাল, সিলেট II ফোন: ০১৭১৯-৭৩৩৫৪৯ | Newsphere by AF themes.
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.