Sun. Dec 5th, 2021

সিলেট টেলিগ্রাফ

সত্য প্রকাশে অবিচল

বিয়ানীবাজারে সেই নিখোঁজ ব্যবসায়ীর কঙ্কাল উদ্ধারের মূল রহস্য উদঘাটন

1 min read

 1,289 total views,  2 views today

এম.এ জয়নুল চৌধুরী:: বিয়ানীবাজারের চারখাই ইউনিয়নের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী কামাল আহমদ (৪২) এর হত্যাকান্ডের মূল রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। সেই সাথে হত্যাকান্ডে জড়িত ৩ আসামী গ্রেপ্তার এবং নিহতের কঙ্কাল উদ্ধার করেছে।

পুলিশ জানায় গত মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বিকেলে বছর খানেক আগে নিখোঁজ হওয়া সেই ব্যবসায়ী কামাল আহমদের কঙ্কাল কচুরিপানা ভর্তি ডুবায় ড্রাম থেকে উদ্ধার করা হয়েছে, এর আগে ওই দিন সকাল ৯টায় দোকান কর্মচারি আমির উদ্দিনসহ ৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলেন আমির উদ্দিন জকিগঞ্জ উপজেলার আটগ্রাম রায়গ্রামের মনু মিয়ার পুত্র। গ্রেফতারকৃত অন্যরা হলো-হেলাল আহমদ ও আব্দুস শহীদ।

জানা যায়, গত বছরের ১০ই আগস্ট বিয়ানীবাজারের চারখাই এলাকার আদিনাবাদ গ্রামের মৃত রকিব আলির ছেলে কামাল আহমদ (৪০) নিখোঁজ হয়েছিলেন । চারখাই বাজারের কামাল ষ্টোরের সত্তাধিকারী ছিলেন তিনি। সেখানে ব্যবসা করেলও তিনি একটি বাড়ি বানিয়ে বসবাস করতেন, আলিনগর ইউনিয়নের খলাগ্রামে। তার সাথে থাকতো তারই দোকানের কর্মচারী জকিগঞ্জের আটগ্রাম এলাকার রায়গ্রামের মনু মিয়ার ছেলে আমির উদ্দিন। ব্যক্তিগতভাবে ব্যবসায়ী কামাল ছিলেন অবিবাহিত ছিলেন ।

প্রতিদিনের ন্যায় ব্যবসায়ী কামাল ও তার দোকান কর্মচারী আমির ব্যবসা বাণিজ্য শেষে তারা রাতে ঘুমাতে যান আলিনগর ইউনিয়নের খলাগ্রামের বাড়িতে। ঘাতকরা ওই রাতেই তাকে হত্যা করে লাশ একটি ড্রামে ভরে তারই বাড়ির পাশে একটি ডুবায় ফেলে দেয়।

পরদিন ব্যবসায়ী কামাল দোকানে না যাওয়ায় পরিবারের লোকজন ফোন দেন দোকান কর্মচারী আমির উদ্দিনকে। সে একেক ধরনের কথা বলে। পালিয়ে বেড়ায় সে নিজেও, সব কিছু রহস্যময় হয়ে উঠে।

পরবর্তীতে ব্যবসায়ী কামাল নিখোঁজ হয়েছেন বলে তার পরিবারের পক্ষ থেকে একটি মামলা দায়ের করা হয়। সিলেটের পুলিশ সুপার ফরিদ উদ্দিন পিপিএম মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব দেন, জকিগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুদীপ্ত রায়কে। তিনি ঘটনার রহস্য বের করতে মাঠে নামেন। তথ্য প্রযুক্তি ও ব্যবসায়ী কামাল এবং দোকান কর্মচারী আমিরের সাথে কারা কারা থাকতো তাদের নিয়ে গভীর অনুসন্ধান চালান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুদীপ্ত রায়।

অবশেষে অনেক তথ্য সংগ্রহের ঘটনায় জড়িত সন্দেহে দোকান কর্মচারী আমিরকে গ্রেপ্তার করা হয়। মঙ্গলবার সকাল ৯টায় কানাইঘাটের কাড়াবাল্লা গ্রাম থেকে আমিরকে গ্রেপ্তার করে পুলিশের একটি দল।

সিলেট জেলা পুলিশের মিডিয়া মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সদর মো. লুৎফর রহমান জানান, আমিরকে গ্রেপ্তারের পর তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে শুরু হয় লাশ উদ্ধার অভিযান। এক সময় সে স্বীকার করে ব্যবসায়ী কামালের বাড়ির পাশে ডুবায় ড্রামে লাশ ফেলে দেয়া হয়েছে। বিকেলে ডুবুরীর সাহায্যে ড্রামের ভেতর থেকে উদ্ধার করা হয় কয়েকটি কঙ্কাল।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফর রহমান আরো জানান, ‘ঘটনার সাথে জড়িত অন্যান্য আসামিদের ধরার জন্য পুলিশ তৎপর রয়েছি। অপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য আমরা কাজ করছি।

Ad
সম্পাদক : যীশু আচার্য্য II স্বপ্নীল ৬৪ মির্জাজাঙ্গাল, সিলেট II ফোন: ০১৭১৯-৭৩৩৫৪৯ | Newsphere by AF themes.
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.