Sat. Dec 14th, 2019

সিলেট টেলিগ্রাফ

সত্য প্রকাশে অবিচল

আশীষ দে; বিশেষ কলামঃ

তথ্যপ্রযুক্তির কল্যানে আজ সবার হাতে হাতে মোবাইল ফোন৷ এক ক্লিকেই ঘুরে আসা যাচ্ছে বিশ্ব ব্রহ্মান্ড। শ্রমিক,মালিক,গরীব- ধনী, ইভটিজার বা প্রতিবাদকারী সবার হাতেই রয়েছে সাধের মোবাইল। তথ্যপ্রযুক্তির অগ্রগতিতে আজ সুফল পাচ্ছে দেশের মানুষ কিন্তুু এক শ্রেনীর বদ লোক ও নেটে তাদের অপব্যবহারে ভয়াবহ আশঙ্কার মধ্যে আছে প্রিয় স্বদেশ।

সোস্যাল মিডিয়ার কথাই ধরা যাক, জনপ্রিয় সোস্যাল নেটওয়ার্কিং সাইট ফেসবুকের প্রতিষ্টাতা মার্ক জুকারবার্গ সাইটটি প্রতিষ্টা করেন অনলাইনে সামাজিক সম্পর্ক রক্ষা/তৈরা বা দুরে থাকা পরিচিত জনের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করার জন্যে এবং পৃথিবীর প্রায় প্রতিটা দেশের নাগরিকেরা আজ ফেসবুকের কল্যানে দুরে থেকেও সামাজিক তথ্য আদান প্রধান করতে  সক্ষম হচ্ছেন।

তারা সীমা লঙ্গন হয় বা দেশ ও সমাজের ক্ষতি হয় নেটে এমন কাজ থেকে বিরত থাকছেন।

কিন্তুু আমরা বাঙ্গালী আমাদের নিজেদের সীমা কতটুকু আমরা সে সম্পর্কে ধারনা রাখি না।

আমরা মুক্ত আকাশে উড়ায়ে বেড়ায়ে চলতে চাই,  আমরা কিসে দেশ ও জাতির ক্ষতি হয় তা মোটেও চিন্তা করি না বা করার প্রয়োজন বোধ করি না।

আমি জানি না বাংলাদেশই একমাত্র দেশ কিনা যেখানে ফেসবুক সহ অন্যান্য সোস্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটগুলো ব্যবহার হচ্ছে রাস্ট্র বিরোধী, ধর্ম বিরোধী ও গুজব সৃষ্টির প্লাটফর্ম হিসেবে।
ফেসবুকে ধর্মকে হেয় করে, রাষ্ট্র বা রাষ্ট্র প্রধানদের হেয় করে, কোন বিশেষ ব্যাক্তিত্ব বা সেলিব্রিটিকে হেয় করে পোস্ট করা হচ্ছে প্রতিনিয়ত এবং সেইসব পোস্ট হাজার হাজার শেয়ার হয়ে পৌঁছে যাচ্ছে মফস্বলের মানুষটির কাছেও যিনি আবার গল্পের ছলে সেই গুজবটিই ছড়িয়ে দিচ্ছেন সারা গ্রামে।
এই দায় কার?
হে মাথা মোঠা নেট ব্যাবহারকারী এই দায় আপনার।
ইন্টারনেটে যাছাই বাছাই না করে যা পান তাই শেয়ার দিয়ে নিজের,সমাজের,দেশ ও জাতির অমঙ্গল ঢেকে আনছেন আপনি নিজেই।

“পদ্মা সেতুতে মাথা লাগে” দে শেয়ার।
“দেশ ভারতের কাছে বিক্রি হয়ে যাচ্ছে” লাগা শেয়ার। “যমজ সন্তানের জন্ম দিলেন এক পুরুষ” মার শেয়ার৷ “এরশাদ আর নাই” লাগা শেয়ার।
কিন্তুু এই শেয়ার করার আগে একবার ও কি ভেবে দেখছেন যে আপনার শেয়ার করা নিউজ সোর্সটি কতখানি সত্য? একজন জীবিত মানুষকেও মৃত দেখিয়ে করা পোস্টটি শেয়ার করে আপনিও কি পাপের ভাগী হচ্ছেন না তো?

আপনার সচেতনতা,সাবধানতা ও মননশীলতাই গড়ে তুলতে পারে সবার জন্য নিরাপদ ইন্টারনেট। তাই হুজুগে নয় কোন কিছু শতভাগ নিশ্চিত না হয়ে কোন কিছু শেয়ার করা বা পোস্ট করা থেকে বিরত থাকলেই গুজব সৃষ্টিকারীরা অনুতসাহিত হবে।

(চলবে)

সিলেট টেলিগ্রাফ, স্বপ্নীল ৬৪ মির্জাজাঙ্গাল, সিলেট, ফোন :০১৭১২-৬৫০১৫৬ | Newsphere by AF themes.
Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.