Sat. Jun 19th, 2021

সিলেট টেলিগ্রাফ

সত্য প্রকাশে অবিচল

সিলেট আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে রদবদল, বাদ পরছেন বিতর্কিত ১১ জন

1 min read

 2,120 total views,  2 views today

সিলেট::চলতি মাসের যে কোনোদিন পূর্ণাঙ্গ কমিটি পাচ্ছে সিলেট জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ। প্রস্তাবিত কমিটি দু’টি থেকে বিতর্কিত ও প্রবাসীদের বাদ দিয়ে পরিচ্ছন্ন এক ঝাক কর্মীকে অন্তর্ভূক্ত করে কমিটি দু’টি দেয়ার প্রস্তুতি চলছে। এক্ষেত্রে কপাল পুড়তে পারে প্রস্তাবিত কমিটি দু’টির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা দুই ডজনেরও বেশি নেতার। তাদের স্থলে অনেক নতুনমুখ দেখা যেতে পারে পুনর্গঠিত কমিটি দু’টিতে।

ইতোমধ্যে জেলার প্রস্তাবিত কমিটিতে ‘কলো তালিকাভূক্ত’ করা হয়েছে এক সহসভাপতি, দুইজন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকসহ ১১জনকে। যারা নানা কারণে বিতর্কিত। আছেন মাই ম্যান, প্রবাসীরাও।

আর মহানগর কমিটি থেকে বাদ পড়তে পারে আরও ১২ থেকে ১৫জন নেতা। বুধবার (৬ জানুয়ারি) দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে মহানগর কমিটি নিয়ে বৈঠক হয়। ওই সভায় কমিটিতে রদবদলের এ সিদ্ধান্তও এসেছে বলে দলীয় একাধিক সূত্র এমন আভাস দিয়েছে।

সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নাসির উদ্দিন খান বলেন, কমিটিতে যাদের চিহ্নিত করা হয়েছে, তারা নিজেদের অবস্থান ব্যাখা করবেন। যারা ব্যাখ্যা করতে ব্যর্থ হবেন, তারা কমিটি থেকে বাদ পড়তে পারেন।

২০১৯ সালের ৫ ডিসেম্বর সিলেট জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলনে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক মনোনীত করা হয়। জেলায় আগের কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অ্যাডভোকেট লুৎফুর রহমান সভাপতি ও আগের কমিটির যুগ্ম সম্পাদক অ্যাডভোকেট নাসির উদ্দিন সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পান। মহানগরে আগের জেলা কমিটির সহসভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মাসুক উদ্দিন আহমদ সভাপতি ও যুগ্ম সম্পাদক জাকির হোসেন সাধারণ সম্পাদক হন।

এরপর গত ১৫ সেপ্টেম্বর তারা জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি কেন্দ্রে জমা দেন। কিন্তু পূর্ণাঙ্গ কমিটি নিয়ে দেখা দেয় অসন্তোষ। ত্যাগী ও পরীক্ষিতদের অবমূল্যায়ন, বিতর্কিতদের স্থান প্রদান, ক্রমবিন্যাসে বিশৃঙ্খলাসহ বিভিন্ন অভিযোগে কেন্দ্রে জমা পড়া কমিটির বিপক্ষে সিলেটে ক্ষোভ দেখা দেয়। এসব অসন্তোষ থেকে মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ফয়জুল আনোয়ারের নেতৃত্বে বিকল্প একটি কমিটি জমা পড়ে কেন্দ্রে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মহানগরের সাধারণ সম্পাদককে ডাকা হয় কেন্দ্রে। পরে মহানগরের একটি সংশোধিত কমিটি জমা দেয়া হয়।

প্রস্তাবিত পূর্ণাঙ্গ কমিটি দু’টিতে যাদের নাম দেয়া হয়েছে- তাদের মধ্যে অনেকেই বিতর্কিত, আত্মীয়তা বা ঘনিষ্ঠতার সম্পর্ক রয়েছে। এমন অভিযোগ উঠে।

এরমধ্যে সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মাসুক উদ্দিন আহমদের ছোট ভাই আসাদ উদ্দিনকে রাখা হয়েছে প্রথম সহ সভাপতি হিসেবে। তবে তিনি প্রকৃত রাজনীতিবিদ। এর আগেও তিনি মহানগর কমিটির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। প্রস্তাবিত কমিটির সাত নম্বর সহ সভাপতিতে রাখা হয়েছে মহানগর সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেনের খালাতো ভাই হেলাল বক্সকে, প্রথম যুগ্ম সম্পাদক আজম খানের বিরুদ্ধে অভিযোগ- তার পুরো পরিবার জামায়াত ও বিএনপির আদর্শে বিশ্বাসী। তার বাবা মহান স্বাধীনতা সংগ্রামে শান্তি কমিটির সভাপতি ছিলেন। তিন নম্বর যুগ্ম সম্পাদক আবদুর রহমান জামিল সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেনের চাচাতো ভাই। তিনি কখনও ছাত্ররাজনীতিতে জড়িত ছিলেন না এবং তিনি সিলেট রেড ক্রিসেন্টে তার দখলদারিত্ব নিয়ে বিতর্কিত। ছাত্র ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক মখলিছুর রহমান কামরান দলীয় কর্মকান্ডে সক্রিয় নন। এছাড়া প্রস্তাবিত কমিটির প্রচার সম্পাদক জুনেদ আহমদ আমেরিকার স্থায়ী বাসিন্দা, কোষাধ্যক্ষ লায়েক আহমদ বঙ্গবন্ধুর খুনি কর্নেল ফারুকের ফ্রিডম পার্টির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। সদস্য পদে তৌফিক বক্স লিপন সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেনের খালাতো ভাই, আতিকুর রহমান সুহেদ মহানগর সভাপতির শ্যালক ও বিয়ানীবাজার উপজেলা যুবলীগের সদস্য। সদস্য মহসিন মাসুদ কোনোদিন ছাত্রলীগ, যুবলীগ বা আ’লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন না। যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক সেলিম আহমদ মহানগর যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক ও আমেরিকার স্থায়ী নাগরিক। শিক্ষা ও মানব সম্পাদক ইলিয়াসুর রহমান ইলিয়াস নারী নির্যাতন মামলার আসামি হিসেবে এক বছরের সাজাপ্রাপ্ত ও টিলা কাটার অপরাধে পরিবেশ অধিদফতরের মামলায়ও আসামি। উপদফতর সম্পাদক অমিতাভ চক্রবর্তী বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা মিজানুর রহমান চৌধুরীর ঘনিষ্ঠজন এবং এক সময় ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। তিনি সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেনের বাসার লজিং মাস্টার। সদস্য পদে কামরুজ্জামান বাবুর বাবা স্বাধীনতাবিরোধী ছিলেন এবং বড় ভাই কাওসার জাহান জামায়াতের বিশ্বস্থ বন্ধু হিসেবে পরিচিত। সদস্য সাব্বির খান নানা কারণে বিতর্কিত। সদস্য ইলিয়াসুর রহমান জুয়েল মহানগর সাধারণ সম্পাদকের খালাতো ভাই এবং মাহফুজ চৌধুরী জয় জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম সম্পাদক। তিনিও আমেরিকার স্থায়ী বাসিন্দা।

প্রস্তাবিত জেলা কমিটিতে যাদের রাখা হয়েছে তাদের অনেকের সম্পর্কে কেন্দ্রে তথ্য জমা দেন বিদ্রোহীরা। এতে বলা হয়েছে- কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট লুৎফুর রহমানের ছেলে ড. লুৎফুল এলাহী কাওসারের পরামর্শক্রমে জেলা কমিটির পূর্ণাঙ্গ তালিকা হয়েছে বলে সমাদৃত। কমিটিতে চার নম্বর সহসভাপতি- অ্যাডভোকেট শাহ ফরিদ আহমদ বর্তমানে আমেরিকায় স্থায়ীভাবে বসবাসরত। সাত নম্বর সহসভাপতি ড. আহমদ আল কবির বিএনপির পলাতক নেতা হারিছ চৌধুরীর নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করেন। এক নম্বর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হুমায়ূন ইসলাম কামাল গত উপজেলা নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে দলীয় প্রার্থীকে পরাজিত করান। দুই নম্বর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ হোসেন দুলাল কানাইঘাট উপজেলার সাংগঠনিক দায়িত্ব পালনকালে দলীয় ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেন। তিন নম্বর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কবীর উদ্দিন আহমদ কোনদিন দল করেননি। আইনবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আজমল আলী কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা যুবলীগ নেতা আবদুল আলী হত্যা মামলার আসামি। তথ্য ও গবেষণাবিষয়ক সম্পাদক দলীয় কার্যক্রমে নিষ্ক্রিয়। প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মোহাম্মদ আব্বাস উদ্দিন সাবেক শিক্ষামন্ত্রীর ঘনিষ্ঠজন পরিচয়ে ভর্তি বাণিজ্যসহ নানা অভিযোগে অভিযুক্ত। শিক্ষা ও মানব সম্পদবিষয়ক সম্পাদক বোরহান উদ্দিন কখনও জেলা রাজনীতি করেননি। তিনি জকিগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য। স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যাবিষয়ক সম্পাদক ডা. সাকির আহমেদ শাহিন কখনও ছাত্রলীগ, যুবলীগ বা স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদসহ কোন সংগঠনে ছিলেন না। জেলা সভাপতির ঘনিষ্ঠ হওয়ায় ওসমানী নগর উপজেলার স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদকের পদ পান। এর তিন মাসের মধ্যেই তাকে জেলা কমিটির একই পদে প্রস্তাব করা হয়। উপদফতর সম্পাদক মো. মজির উদ্দিন জেলা সাধারণ সম্পাদকের ব্যক্তিগত স্টাফ এবং কোনদিন ছাত্রলীগ বা যুবলীগে ছিলেন না। তার বাবা কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সহসভাপতি। উপপ্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মতিউর রহমান কখনও যুবলীগ, আওয়ামী লীগ বা স্বেচ্ছাসেবক লীগের রাজনীতিতে ছিলেন না। কোষাধ্যক্ষ পদে শমসের জামাল যুবলীগ, আওয়ামী লীগ বা স্বেচ্ছাসেবক লীগের রাজনীতিতে ছিলেন না। এছাড়া সদস্য পদে গোলাম কিবরিয়া হেলাল স্থায়ীভাবে আমেরিকায় বসবাস করছেন। সদস্য পদে ফারুক আহমদ ও কামাল আহমদ গত উপজেলা নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে নির্বাচন করেন। একই পদে আফসর আহমদ জাতীয় পার্টি থেকে আগত ও গত ইউপি নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে নির্বাচন করেন। এছাড়া সদস্য পদে শাহিদুর রহমান চৌধুরী, ডা. নাজরা আহমদ চৌধুরী আমেরিকা ও গোলাপ মিয়া যুক্তরাজ্য প্রবাসী।

এমন পরিস্থিতিতে গত ৩১ ডিসেম্বর ঢাকায় তলব করা হয় জেলা কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকে। ওইদিন দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্টিত বৈঠকে সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের প্রস্তাবিত কমিটি থেকে একজন সহসভাপতি ও দুইজন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকসহ ১১ নেতাকে চিহিৃত (কালো তালিকাভূক্ত) করে কমিটি রদবদলের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

বৈঠকে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবীর নানক, নুরুল ইসলাম নাহিদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ, সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরী নাদের, শাখাওয়াত হোসেন শফিক, সদস্য ডা. মুশফিক চৌধুরী, আজিজুস সামাদ ডন, সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি লুৎফুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন খান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক সূত্র জানায় জেলার প্রস্তাবিত কমিটি থেকে যাচাই-বাছাই শেষে ১১ জনকে বাদ দিয়ে এদের স্থলে অন্যদের অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত হয়। বাদ দেয়া নেতারা (প্রস্তাবিত কমিটি) হলেন সাত নম্বর সহসভাপতি ড. আহমদ আল কবির।

তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, তিনি বিএনপির পলাতক নেতা হারিছ চৌধুরীর নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন ইসলাম কামাল ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ হোসেন দুলালকে বাদ দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এরমধ্যে হুমায়ুন ইসলাম কামালের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি গত উপজেলা নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে দলীয় প্রার্থীকে পরাজিত করান।

দুই নম্বর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ হোসেন দুলাল কানাইঘাট উপজেলার সাংগঠনিক দায়িত্ব পালনকালে দলীয় ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করেন। স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. শাকির হোসেন শাহীনের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, তিনি ছাত্রলীগ, যুবলীগ বা স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদসহ কোন সংগঠনে ছিলেন না। জেলা সভাপতির ঘনিষ্ট হওয়ায় ওসমানী নগর উপজেলার স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদকের পদ পান। এর তিন মাসের মধ্যেই তাকে জেলা কমিটির একই পদে প্রস্তাব করা হয়। এছাড়া নানা কারণে বিতর্কিত মোস্তাক আহমদ পলাশ, ফারুক আহমদ, এসএম নুনু মিয়া, গোলাম কিবরিয়া হেলাল, শাহীদুর রহমান চৌধুরী জাবেদ, জাহাঙ্গীর আলম। তবে ‘কালো’ তালিকায় থাকা অন্য একজনের নাম জানা সম্ভব হয়নি।

সূত্র জানায়, সিলেট সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র বদরউদ্দিন আহমদ কামরানের পুত্র ডা. আরমান আহমদ শিপলুকে জেলা কমিটি থেকে মহানগরে রাখা হচ্ছে। মহানগর কমিটি নিয়ে ডাকা বৈঠকে ডা. আরমান আহমদ শিপলুর বিষয়টি চূড়ান্ত হওয়ার কথা

Ad
সম্পাদক : যীশু আচার্য্য II স্বপ্নীল ৬৪ মির্জাজাঙ্গাল, সিলেট II ফোন: ০১৭১৯-৭৩৩৫৪৯ | Newsphere by AF themes.
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.