Sat. Jun 19th, 2021

সিলেট টেলিগ্রাফ

সত্য প্রকাশে অবিচল

সিলেটে সরকারি ত্রাণের চালের বস্তা থেকে চাল গায়েব!

1 min read

 1,098 total views,  2 views today

সিলেট:: ‘শেখ হাসিনার বাংলাদেশ, ক্ষুধা হবে নিরুদ্দেশ’ এই স্লোগানে করোনা পরিস্থিতিতে সিলেটসহ সারা দেশে ব্যাপক ত্রাণ বিতরণ করছে সরকার। এরই ধারাবাহিকতায় সিলেট সিটি কর্পোরেশন এলাকায় কাউন্সিলরদের মাধ্যমে গরিব জনগোষ্ঠীর মধ্যে সরকারি ত্রাণের চাল বিতরণ করা হচ্ছে। কিন্তু ত্রাণের চালের প্রতি বস্তা থেকে ২-৩ কেজি করে চাল গায়েবের খবর পাওয়া গেছে। আজ বুধবার (২৭ এপ্রিল) সিলেট সিটি কর্পোরেশনের ১৩ নং ওয়ার্ডে চাল বিতরণ করতে গিয়ে বিষয়টি ধরা পড়ে।

জানা গেছে, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের ১৩ নং ওয়ার্ডের গরিবদের জন্য কাউন্সিলর শান্তনু দত্ত (সনতু)-কে ৪টন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়। ৩০ কেজি করে ১৩৩ বস্তায় ৪ টন থাকার কথা। কিন্তু এই ১৩৩ বস্তার বেশিরভাগ বস্তায়ই ২-৩; এমনকি ৪কেজি পর্যন্ত চাল কম রয়েছে।  এতে প্রায় ২০০ কেজি চাল কম রয়েছে এই ৪ টনের মধ্যে। বুধবার (২৯ এপ্রিল) ১৩ নং ওয়ার্ডের লামাবাজার এলাকায় গরিবদের মধ্যে ২০ কেজি করে চাল দিতে গিয়ে বিষয়টি ধরা পড়ে কাউন্সিলর শান্তনু দত্তের কাছে। তবে এই চালগুলো কে বা কারা কোথায় এবং কীভাবে কমিয়েছে তা এখনই বলতে পারছেন না সংশ্লিষ্টরা। জেলা খাদ্য অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বলছেন- বিষয়টি খতিয়ে দেখে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এদিকে, প্রতি বস্তায় চাল কম থাকার বিষয়টি সিসিক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী এবং জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক (ভারপ্রাপ্ত) মনোজ কান্তি দাস চৌধুরীকে তাৎক্ষণিক জানান কাউন্সিলর শান্তনু দত্ত। খবর পেয়ে তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যান এবং বিষয়টির সত্যতা পান। এসময় পুলিশ প্রশাসনের লোকজনও উপস্থিত ছিলেন।

এ বিষয়ে কাউন্সিলর শান্তনু দত্ত বলেন, জনগণকে ২০ কেজি করে চাল দিতে গিয়ে যখন হিসাবে গড়মিল দেখা দেয়, তখনই বিষয়টি আমার কাছে ধরা পড়ে। আমি এ কিস্তিতে ১৩৩ বস্তায় ৩০ কেজি করে ৪ টন চাল বরাদ্দ পেয়েছি। কিন্তু আমি প্রতি বস্তায় ২-৩, এমনকি কোনো বস্তায় ৪ কেজি পর্যন্ত কম। তিনি বলেন, আমি সব বস্তা ইলেক্ট্রনিক মাপযন্ত্র দিয়ে মেপেছি। আমি বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে সিটি কর্তৃপক্ষ এবং খাদ্য অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে জানিয়েছি। তারা এসেছেন, এবার বিষয়টি তারা দেখবেন।

সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বলেন- শুধু ১৩ নং ওয়ার্ড নয়, ১৬, ১৭ ও ২০ নং ওয়ার্ডেও বরাদ্দকৃত চালের ব্যাপারে এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে। আজ যখন কাউন্সিলর শান্তনু দত্ত আমাকে ফোন করেন তখন আমি বলি- আপনি চাল বিতরণ বন্ধ রাখেন, জেলা খাদ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তাকে ফোন করুন, আমি জেলা প্রশাসক মহোদয়ের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলছি। পরে ঘটনাস্থলে এসে এ বিষয়টির সত্যতা দেখতে পাই। এখন জেলা খাদ্য অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের প্রতি অনুরোধ থাকবে, তারা যেন বিষয়টি যথাযথভাবে খতিয়ে দেখেন এবং এ বিষয়ে কারো হাত থাকলে তাকে যেন শাস্তির আওতায় নিয়ে আসেন। কারণ- সরকারি ত্রাণের জিনিসগুলো জনগণের কাছে পৌঁছে দেই আমরা। সে ক্ষেত্রে মাপে কম হলে আমাদেরকে জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে হবে।

এ বিষয়ে ঘটনাস্থালে উপস্থিত হওয়া জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক (ভারপ্রাপ্ত) মনোজ কান্তি দাস চৌধুরী বলেন, এই চালগুলো সরাসরি চিটাগাং থেকে এসেছে।  আসার পর সেগুলো আমাদের গুদামে আর মাপ না দিয়ে সিটি কর্পোরেশনের কাছে দিয়ে দেয়া হয়েছে। এই অবস্থায় আজ খবর পেয়ে ১৩ নং ওয়ার্ডে গিয়ে কোনো বস্তায় কিছু কিছু চাল কম পেয়েছি।  আবার কিছু বস্তায় চাল ৩০ কেজির থেকে বেশিও আছে।

তিনি বলেন, চালের বস্তাগুলো এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় নিয়ে আসতে গেলে অনেক সময় বস্তা ছিড়ে কিছু চাল পড়ে যায়। কিন্তু প্রতি বস্তায় কম থাকার বিষয়টি খতিয়ে দেখতে হবে। আমাদের গোদামের দায়িত্বে যিনি আছেন তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এবং এ বিষয়ে খোঁজ-খবর নিয়ে যদি কেউ দোষী সাব্যস্থ হয় তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ বিষয়ে একটি কমিটি গঠন করার হবে বলে তিনি জানান।

Ad
সম্পাদক : যীশু আচার্য্য II স্বপ্নীল ৬৪ মির্জাজাঙ্গাল, সিলেট II ফোন: ০১৭১৯-৭৩৩৫৪৯ | Newsphere by AF themes.
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.